কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের উদ্দেশ্য

আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের উদ্দেশ্য। যা বাউবি ওএসএমবিএ ২২০১ কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা – ইউনিট ১০ এর অন্তর্গত।

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের উদ্দেশ্য

 

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের উদ্দেশ্য

 

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের ক্ষেত্রসমূহ

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণ হলো কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের একটি হাতিয়ার। এটি পাঁচটি ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে, যেমন:

(i) ফলাফল (Result) : এটি সফলতার সাথে কার্য সমাপনের ফলাফল প্রকাশ করে।

(ii) কার্যকারিতা (Effectivences) : এটি কত শুদ্ধভাবে কর্মীগণ কার্যসম্পাদন করতে সমর্থ হয়েছে তা নির্ধারণ করে।

(iii) অগ্রগতি (Progress) : কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং আরও কোন কোন ক্ষেত্রে তা করা যায়। এটি তা বলে দেয় ।

(iv) কার্য পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া (Work Mehods & Procudure ) : উন্নত কার্যের জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পরামর্শ দেয় ।

(v) কার্যাভ্যাস (Work habits) : কার্যক্ষেত্রে কর্মীগণ কতটুকু নৈতিকতা অনুসরণ করেছে এবং অনুকুল মনোভাব পোষণ করেছে এবং করে, তা নির্ধারণ করে।

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের বিবেচ্য বিষয়সমূহ

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের সময় কতিপয় বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। এগুলো হলো:

১। কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া যে সঠিক ও বৈধ তা কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে প্রতিফলিত হতে হবে ।

২। কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণ কার্যক্রম চলমান থাকতে হবে।

৩ । এটি যেন কোনো কর্মীর নিকট উদ্বেগজনক না হয় বরং কার্যের সঠিক মূল্যায়ন হয়।

৪। পরিবীক্ষণ কার্যের শুরুতে, মধ্যবর্তী সময়ে এবং শেষে এ তিনটি পর্যায়ে সম্পাদিত কার্য চিহ্নিতকারী ও তা নিয়ে কর্মীদের সাথে আলোচনা করতে হবে।

৫। বৈধ পদ্ধতিতে ক্রেতাদের নিকট থেকে প্রতিক্রিয়া সম্পাদন করতে হবে। যেমন: সরাসরি পর্যবেক্ষণ, সম্পন্ন কার্যের পর্যালোচনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রভৃতি।

 

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের উদ্দেশ্যসমূহ

১। এটি কর্মীদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করে।

২। এটি ব্যক্তির কার্যসম্পাদন ও একই সাথে কার্যসম্পাদন পরিমাপের পদ্ধতি ও কৌশলের উন্নয়ন সাধন করে ।

৩। কার্যসম্পাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন পর্যায়ে দলগত ও ব্যক্তিক কার্যসম্পাদন নিয়ামক চিহ্নিতকরণ ও পর্যালোচনা করা ।

৪ । অনুকূল দৃষ্টিভঙ্গিতে যেন প্রতিফলন বা প্রতিক্রিয়া বোঝে ও গ্রহণ করে, এমন অঙ্গীকার ও প্রেষণার স্তর মূল্যায়ন করা।

৫। এটি পরিবর্তনকে বিবেচনা করে যা বাহ্যিক পরিবেশ দ্বারা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যসম্পাদনের উন্নয়নকে প্রভাবিত করে।

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের গুরুত্ব

একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কারণগুলো হলো :

১. এটি বর্তমান কার্যসম্পাদন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবর্তন আনয়ন করে। এখানে উন্নত সিস্টেম প্রবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

২. এটি প্রতিষ্ঠানের মিশন ও উদ্দেশ্যের সাথে কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যের সংযোগসাধন করে এবং প্রয়োজনে তা পর্যালোচনা ও সংশোধন করে ।

৩. এটি যে সকল পর্যায়ে যোগ্যতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন তা চিহ্নিত করে ।

8. এটি নিয়মিতভাবে কর্মীদের কার্যসম্পাদনের মান বৃদ্ধি করে।

৫. এটি কর্মীদের পরিপূর্ণ সম্ভাবনা উদঘাটনে সাহায্য করে এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোত্তম কার্যসম্পাদনের ব্যবস্থা করে।

 

কার্যসম্পাদন পরিবীক্ষণের উদ্দেশ্য

মন্তব্য করুন

Are you human? Please solve:Captcha